প্রকাশিত:
২ ঘন্টা আগে

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয়বার প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেয়ার পর মাত্র কয়েকমাসের ব্যবধানে দুইটি শাটডাউনের সাক্ষী হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
ক্ষমতাসীন রিপাবলিকান ও বিরোধী দল ডেমোক্রেটিক দ্বন্দ্বে যুক্তরাষ্ট্রে সরকারি ব্যয় সংক্রান্ত বিল অনুমোদন না পাওয়ায় গত ১ অক্টোবর থেকে শুরু প্রথম সরকার শাটডাউন। এর ফলে প্রায় ৭ লাখ ৩০ হাজার কর্মীর বেতন বন্ধ হয়ে যায়। বেতন ছাড়াই ছুটিতে যেতে বাধ্য হন আরও ৬ লাখ ৭০ হাজার কর্মী।
চাকরি হারিয়ে বেকার হয়ে পথে নামেন অনেক মার্কিনি। স্থবির হয়ে পড়ে ব্যবসা বাণিজ্য। প্রায় দেড় মাস পর অবশেষে গত ১০ নভেম্বর রাতে সিনেট (কংগ্রেসের উচ্চকক্ষ) ৬০-৪০ ভোটে বিলটি অনুমোদন করে। এর মাধ্যমে ৩০ জানুয়ারি পর্যন্ত সরকারের অর্থায়ন নিশ্চিত হয়। এরপর চলতি সপ্তাহের শুরুতে আবারও আংশিক সরকার শাটডাউনের মুখে পড়ে যুক্তরাষ্ট্র।
স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট- আইসিই ও কেন্দ্রীয়ভাবে অর্থায়িত অলাভজনক সংস্থা- সিবিপি সংস্কার নিয়ে আলোচনার স্বার্থে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ-ডিএইচএসের অর্থায়ন দুই সপ্তাহের জন্য পিছিয়ে দেয়ার একটি বিল পাস করে কংগ্রেস।
তবে প্রতিনিধি পরিষদ ছুটিতে থাকায় ভোটাভুটি পিছিয়ে যায়। ফলে সরকারি বিভাগগুলোতে শুরু হয় আংশিক শাটডাউন। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) যুক্তরাষ্ট্রের হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস ২১৭–২১৪ ভোটে এ বিলটির অনুমোদন দেয়। আর এর মাধ্যমেই শেষ হয় আংশিক সরকারি শাটডাউনের।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রিপাবলিকানদের দ্রুত ভোটে যেতে আহ্বান জানানোর পরই এই সিদ্ধান্ত আসে। বিলটি এরই মধ্যে সিনেটে পাস হয়ে ট্রাম্পের স্বাক্ষরে আইনে পরিণত হয়েছে। ট্রাম্প জানান, এ বিল যুক্তরাষ্ট্রের জনগণের জন্য একটি বিজয়ের প্রতীক।
নতুন আইনে প্রতিরক্ষা, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, শ্রম ও আবাসনসহ ১১টি সরকারি খাতে অর্থায়ন সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নিশ্চিত করা হয়েছে। তবে সবচেয়ে বিতর্কিত ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি—ডিএইচএসের অর্থায়ন মাত্র দুই সপ্তাহের জন্য বাড়ানো হয়েছে।
মিনিয়াপোলিসে ফেডারেল ইমিগ্রেশন এজেন্টদের গুলিতে দুই নাগরিক নিহত হওয়ার পর ডিএইচএস তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ে। ডেমোক্র্যাটরা অভিবাসন অভিযানে বডি ক্যামেরা বাধ্যতামূলক করা, মুখ ঢাকার মাস্ক নিষিদ্ধ এবং অপারেশনাল প্রটোকলে পরিবর্তনের দাবি তুলেছেন। রিপাবলিকানদের মধ্যেও এ বিষয়ে মতভেদ স্পষ্ট।